Breaking news
সব সাহিত্যালোচনা কবিতা গল্প

কবিতা

তোমাকেই প্রয়োজন
তোমাকেই প্রয়োজন

অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে পৃথিবীর ভাগ্যাকাশ শুরু হয়েছে একের পর এক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ; মহামারি চলছে পাল্লা দিয়ে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পশুত্ব গিলছে মনুষ্যত্ব অ-অনুমেয়— কতটা লম্বা মৃত্যুর মিছিল?   অশান্ত, ভীষণ প্রকৃতি এখন। ধৈর্য, সহনশীলতার হয়েছে অকালমৃত্যু দানবীয় শক্তিতে জ্বলে উঠেছে আগ্নেয়গিরি। বিষাক্ত বিষ উদগিরিত হচ্ছে গলগলিয়ে লাভার তাপে অঙ্গার হলো পাখির নীড়।   এমন দুর্যোগকালীন সময়ে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। কেবল তুমিই জানো স্বার্থের বেড়া ভেঙে প্রেমের কুটির রচনার মন্ত্র। তুমিই পারো ধ্বংসস্তূপকে রূপ দিতে শৈল্পিক।   এমন ধবধবে ভূতুড়ে দিনে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। তোমার জাদুকরি শব্দরাই পারবে মোহের ঝকমকি সরিয়ে জাগ্রত পতাকা ওড়াতে। তোমার আগুনঝরা কথা স্ফুলিঙ্গের মতো ঘুরবে কালের আকাশে।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
কামিনীর গন্ধে তুমি

আকাশের নীলে কীবা কবিতার মিলে না গোলাপের সুরভিতে ডানা মেলা চিলে না। গোধূলির রং এসে সন্ধ্যায় যায় মেশে কোথাও তো নেই তুমি গল্পের শুরু-শেষে।   চাদরের আদরে না না ভোরের রবিতে না শিমুল কোলে থাকা কোকিলের ছবিতে। রিমঝিম টুপটাপ বরষার ছন্দে তোমাকেই খুঁজে পাই কামিনীর গন্ধে।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
সহধর্মিণী

সুন্দর সুন্দর মিষ্টি নামে মানুষ ডেকে থাকেন স্বপ্নের প্রিয় মানুষটিকে!    অগণিত কথা লিখে রাখেন মনের ডায়েরিতে; অপেক্ষায় দিন গুনেন!   বিধাতার অপূর্ব সৃষ্টি ও বন্ধন জীবনসমুদ্রে সুখ-দুঃখের সাথী সহধর্মিণী।   সময়, পরিবেশ-পরিস্থিতিতে সুমধুর সম্পর্কে দেয়াল তৈরি না হলেই ভালো!   স্বপ্ন আর বাস্তব জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন! সুন্দর স্বপ্নময় জীবন সকলের প্রত্যাশা।   ভালোবাসার মানুষটি যদি অচেনা মনে হয় তখনই শুরু হয় বেদনার বৃষ্টি!   ভালোবাসার প্রিয় মানুষটি সুন্দর সুস্থ দীর্ঘ জীবন পেয়ে থাকেন সহধর্মিণীর কারণে।   বেদনার বৃষ্টি অনবরত এলে সূচনা হয় এক অভিন্ন পরিবর্তন অতঃপর একাকী!   নিজের কষ্ট একান্তই  নিজের হাসিমুখে থাকলেও একাকী জীবন বড়ই অদ্ভুত!    সব হিসাবব মেলাতে মেলাতে অতিবাহিত; একদিন সব ছেড়ে না ফেরার দেশে।    

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
নিঃসঙ্গতা এবং তুমি

এই শহরের চারপাশের ধুলোবালি যানজট  বড় আপন মনে হয় অতটা আপন আমার আর কেউ নেই  তোমার চলে যাওয়ার সেই দিন থেকে।   এই নিঃসঙ্গতা  এই ধুলোবালি যানজট  আমারে আগলে রাখে হারিয়ে যেতে চাইলেও বারবার ফিরে আসি আসতে হয় তোমার জন্য কী জানি, কখন অভিমান ভেঙে ফেরো।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
রূপের বর্ষা

ভরা গাঙে নৌকা চলে মাঝি তোলে পাল  ঘন মেঘের খেয়া চলে জেলে টানে জাল।    খালে-বিলে ব্যাঙের নাচন সূর্য মামার আড়ি কালো মেঘের ছায়া ভাসে ময়ূর নাচে ভারি।    হাসনাহেনা কদম কেয়া   গন্ধরাজ ও জুঁই  হেসে হেসে গন্ধ ছড়ায় বৃষ্টি কণা ছুঁই।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
শান্তির সন্ধানে

যান্ত্রিক শহর দিচ্ছে পিছুটান বাইরের কোলাহল সব ভুলে জীবনের একচিলতে আশা মেলে যেন শান্তি নদীর কূলে।   নদীর কলতানে পাখির গানে কোলাহল ছেড়ে দূর বহুদূরে শান্তির সন্ধানে মন ছুটে যায়  অজান্তে সেই অজানার সুরে।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
আমি এখনো বেঁচে আছি

কি হলো, ভগবান, হাপিয়ে গেলে নাকি?  আরও কষ্ট দাও, আমি তো এখনো বেঁচে আছি ঝড়ের পর ঝড় এসে ভেঙেছে আমার ঘর তবু বুকের ভেতর জ্বলে আশার অমর প্রদীপ।   হাজার অপমানের ভার কাঁধে নিয়েও আমি এখনো মাথা নত করতে শিখিনি।  চোখের জলে ভিজেছে অসংখ্য রাত তবু হাসির আলো নিভতে দিইনি।   যারা ভেবেছিল আমি হার মেনে যাব তাদের ভুল প্রমাণ করাই আমার প্রতিজ্ঞা। প্রতিটি ক্ষত আজ আমার শক্তির চিহ্ন প্রতিটি ব্যথা নতুন পথের দিশা।   যদি পরীক্ষা নিতেই চাও তবে শেষ সীমা পর্যন্ত নিয়ো।  দেখো, ভাঙা মানুষও কীভাবে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।   কারণ আমি জানি—  অন্ধকার যত গভীর হয় ভোর ততটাই কাছে আসে।  আমি এখনো বেঁচে আছি আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় জয়।    

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
অপেক্ষার জন্য

প্রতিটি বিকেলে দুকাপ চা বানাই এক কাপ নিজের জন্য আরেক কাপ অপেক্ষার জন্য। জানালার পাশে রেখে দিই তোমার নামে বরাদ্দ সেই কাপ। বাষ্প উড়ে যায় ধীরে ধীরে সময়ও ফুরোয় তার সঙ্গে। মস্তিষ্কের নিউরনে তোলপাড় ঝড়, শিরার ভেতর অপেক্ষার স্রোত। দরজার দিকে বারবার তাকাই শব্দ হলেই চমকে উঠি। চা ঠান্ডা হয়, সন্ধ্যা নামে পাখিরা ফিরে যায় আপন নীড়ে কেবল অপেক্ষা ফুরোয় না।    

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
মুছে খরা বর্ষা এলে

খরা যখন উদোম নাচে  ওষ্ঠাগত প্রাণ  বৃষ্টি তখন শীতল ঢেলে  গাইতে আসে গান।   টলমলে জল কচুর পাতায়  স্নান সেরে নেয় ঘাস দিঘির পাড়ে এক পায়ে বেশ ঘুমায় বসে হাঁস।   ছুটতে থাকে জলের ধারা  ভরে পুকুর বিল ছুটিতে যায় সুর্যি মামা হাসে না খিলখিল!   টিনের চালে ঝুমুর তালে  বৃষ্টি বাজায় বিণ আকাশ ঢাকে কালো মেঘে আঁধার কাটে দিন।    উল্লাসে ব্যাঙ মাছের দলে  উজান পানে ধায় বর্ষা আনে ভরসা মনে  প্রাণ খুলে গান গায়।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ওপারের সুখ

যার নেই অন্ন সে চায় অট্টালিকা যার আছে অট্টালিকা তার ঘুম নেই যার নেই কাজ সে চায় কর্মের সুযোগ যার কাজ আছে তার শান্তি কোথাও নেই।   সমাজের পথে দেখি কত মুখ— হাসির আড়ালে জমে থাকা কান্না বাহ্যিক চাকচিক্যে ঢেকে রাখা অগণিত না-পাওয়া, না-বলা যন্ত্রণা।   কৃষক ভাবে শহরের মানুষ সুখী শহরের মানুষ ভাবে গ্রামের জীবন ভালো প্রবাসী ভাবে দেশের মাটিই স্বর্গ দেশে থাকা মানুষ খোঁজে বিদেশের আলো।   জীবনের এই চিরন্তন খেলায় মানুষ শুধু দৌড়ায় মরীচিকার পিছু হাতে যা আছে তার মূল্য ভুলে হারায় অমূল্য সুখের কিছু কিছু।   সত্যি বলতে সুখ কোনো ওপারে নয় সুখ থাকে মনের গভীর আঙিনায় কৃতজ্ঞতার ছোট্ট প্রদীপ জ্বাললে অন্ধকারও আলো হয়ে ধরা দেয়।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
পেণ্ডুলামের দোলন

আসে উৎসব কত বুকের দীর্ঘশ্বাস পায়ে দলে যতই চেপে বসুক না কেন এ মাটির বুকে দুঃখ-ভার কোপার্নিকাসের সমীকরণের হাত ধরে চলবে পৃথিবীর ঘূর্ণন অমোঘ নিয়ম ছিঁড়তে দেবে না পেণ্ডুলামের দোলন। দুলবেই তা দুলবেই সময়ের পথে- শেষ প্রান্তে এসে অসীম যেখানে দাঁড়িয়ে পাহারাদারের মতো টুঁটি চেপে ধরে বলবে যখন এবার থাম! তখন থামবেই থামবে।   

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
মায়ের মন

মায়ের মতো প্রফুল্ল মন তাঁর চোখেতে রব সে যে আমার চোখের মণি সে যে আমার সব। তার বিহনে দুঃখ কমে যায় সুখের ফোয়ারায় কষ্ট লাঘব, মনটা বড় মাকে কাছে চায়। মা ছাড়া এই দুনিয়াটা আধার লাগে খুব মায়ের জন্যে তাই তো শুধু নীরব কেঁদেই চুপ।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
আমার বর্ষার নদী

শৈশবের কিশোরী বেলায় বর্ষার নদীর বুকে ভেসে হাবুডুবু খেতে আবার কাউকে ভাসিয়ে দিতাম খেলার ছলে।   ওই খড়কুটোর পাতা আঁকড়ে ধরে বর্ষায় অসংকোচে ভাবতাম আমি কৈশোরে যৌবনে কি অবলীলায় মানুষকে ভালোবাসতাম?   এখন আমি যেন এক অন্তঃসলীলা নদী। কিছু ছেলেমানুষী ঋণ নেয়া আছে জীবনের কাছে আগে মেঘ বিজলি বাদল হলে ছুটে যেতাম এখন একটি শক্তপোক্ত ছাতা খুঁজি।   ইদানীং নিজের ভালো-মন্দ নিরাপত্তা একটু বেশি বুঝি আগে আমি আকাশে মেঘ দেখলেই প্রেমে পড়তাম এখন আবহাওয়া রিপোর্ট দেখি।   সে মেঘে বৃষ্টি হবে কি না রাস্তায় পানি জমবে কি না; জানালার কপাট বন্ধ করে রাখি বেপোরোয়া বৃষ্টির ঝাঁপটা ঘরে আসে যদি; কিশোরী বেলায় এই আমিই ছিলাম বর্ষার নদী এখন নদী জল দুই আছে।   ভেসে যাই যদি পিছে; সেই দুঃসাহস আর নেই তো এই অন্তঃসলীলা আমি নিশ্চিন্তে আছি এই ভেজা মাটির গভীরেই।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্রেমিক খুব কম

আমার মহল্লায় সবকিছু মেলে মাছের আঁশটে গন্ধে ভিজে থাকে সকাল মাংসের দোকানে বেড়ে যায় রক্তের ব্যস্ততা। সবজির বাজারে ঝুলে থাকে দরদামের ক্লান্ত সংসার কনফেকশনারির আলো ঝলমলে সারি সন্ধ্যাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।   অষুধের দোকানগুলো রাত জেগে বিক্রি করে বেঁচে থাকার ভরসা ফলের দোকানে স্তূপ হয়ে থাকে ঋতুর মিষ্টি মুখ।   জুতার দোকানে মানুষ কিনে নেয় দূর যাত্রার সাহস ইলেকট্রনিকসের নীল আলো ঘুমহীন শহরের চোখে জেগে থাকে।   সবই আছে—নিত্য প্রয়োজন বেঁচে থাকার আয়োজন।   শুধু কোনো ফুলের দোকান নেই আমার মহল্লার কোথাও এখানে মানুষ জন্মায় বেশি প্রেমিক খুব কম।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বিনয় মজুমদার সমীপে...

দুঃখ-কষ্টের উত্তাপে বাস্পায়িত খেদ ছাড়া কবিতার জন্ম হয় না। সুখপ্রাপ্তি ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশে শব্দ ও বাক্যের দুর্ভিক্ষ চিরকাল।  যারা মনোবেদনাকে পাশবালিশের মতো করে আয়েশে জড়িয়ে রাখে অপ্রাপ্তির আক্ষেপ অতি যত্নে মমি করে জমায় কিংবা ক্ষণের সুখ স্মৃতির কফিন জমা রাখে  অ্যান্টার্কটিকার ডোম ফুজিতে  তারা মাঝেমধ্যে সেই বেদনা জমে থাকা সজীব কফিন  খুলে সন্তর্পণে নেড়েচেড়ে দ্যাখে কষ্টের দগদগে ক্ষত। কেউ কেউ দুঃখ-ব্যথার উচ্চ ফলনশীল বীজ রোপণ করে  মস্তিষ্কের উর্বর জমিনে যেখানে কষ্টেরা বারোমাসি উদ্বৃত্ত ফলন দেয় অথচ মনোকবি দুঃখজাত হৃষ্টপুষ্ট ফসল বেচতে পারে না কেননা, দুঃখযন্ত্রণা বিকোনোর নেই কোনো হাট বা সুরম্য মল। কিন্তু দুঃখ কেনা যায় দেদারসে বাহারি রঙের নানান পদ ও স্বাদের দুঃখের এক কবি বলেছিলেন- ‘কবিতা লিখলে দুঃখ ভোলা যায় কিন্তু দুঃখ ভুলে গেলে আর কবিতা লেখা যায় না।’ তারাই কবিতা লিখতে পারে যারা দুঃখকষ্টের পরাগায়ণ ঘটায় লাল, নীল, হলদে কিংবা সবুজ দুঃখের ফুলে ফুলে।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
আমি শুধু তোমারই থাকব

তুমি যেখানে যাও পিছু ফিরে দেখবে আমাকে ভিড়ের মাঝে রাস্তার বাঁকে  বৃষ্টির ফোঁটায় আমি থাকব না।  তবু আমার গন্ধটা থেকে যাবে। তুমি হাসবে কিন্তু হঠাৎ চুপ করে যাবে  কারণ বাতাসে ভেসে আসবে আমার পুরোনো নাম। ফেলে আসা স্মৃতির শহর কফির কাঁপে জানালার কাচে পুরোনো গানের সুরে— আমি লেগে থাকব অদৃশ্য ছায়ার মতো।   নতুন কেউ হাত ধরবে তুমি শক্ত করে ধরবে তোমার আঙুল খুঁজবে আমার হাত আঙুলের ফাঁকে খুঁজবে আমার শীতলতা।  শহর বদলাবে  ঠিকানা বদলাবে শুধু পিছু ফেরার অভ্যাসটা বদলাবে না। একদিন ক্লান্ত হয়ে বলবে— আর না।  সেদিনও রাতের শেষে দরজার আড়ালে আমার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনবে। কারণ কিছু মানুষ যায় না তারা থেকে যায়... পিছু ফেরার মধ্যে।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
পাতা ঝরার দিন

জীবনচক্র, ঋতুচক্র কতই না মিল তবু সময়ের সাথে ধরা পড়ে কিছু অমিল। মানুষের শৈশব, কৈশোর যৌবন, বার্ধক্যকাল স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠে জীবনের সকাল।   বয়সের ধাপে ধাপে মনে রং ধরে যৌবনের কথাই বেশি মনে পড়ে। বৃদ্ধ বয়সে হয় স্মৃতিকাতর কারও জীবনে সুখ কারও বেদনার প্রহর।   পাতাঝরার দিন- প্রকৃতির সবুজ হয় মলিন ঋতুচক্রে কচি ঘন সবুজ রঙিন পাতা স্মৃতিগুলো লিখে রাখে হৃদয়ের খাতা।   সময়ে জীবনচক্রের ঘটে অবসান নতুন প্রাণে পূরণ হয় শূন্য স্থান। ঋতুচক্রেও ঝরে যায় পুরোনো পাতা নবপল্লবে মুছে যায় বিষাদের কথা।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বর্ষা এল

বৃষ্টি এল টাপুরটুপুর ভাসছে নদীর কূল কেয়া কদম জুঁই কামিনি ফুটবে বেলি ফুল। ফুটবে আরও দোলনচাঁপা ছড়াবে খুব ঘ্রাণ নানা রকম ফুলের ঘ্রাণে জুড়িয়ে যাবে প্রাণ। বর্ষা এল মন রাঙাতে নতুন পানি নিয়ে এই সুযোগে হবে আবার খেঁকশিয়ালের বিয়ে। ছেলেমেয়ে ভাসিয়ে দেবে কলাগাছের ভেলা ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাকবে যে ব্যাঙ করবে মজার খেলা।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
অন্তরে রেখেছ পা

আঁধারের অন্তরে রেখেছ পা আটকায়নি সেখানে কাদামাটি নুড়ি বা খাদে কী ভেবে থেমে গেছ থমকে পাথর হয়ে বুঝেছ কি কোথায় রেখেছ ভার কী কথা বলছিল তারা নিজেদের ভেতর যা তাদের সুরেলা রূপকথার গান হয়েছিল ঢাউস মাপের পূর্ণ চাঁদের রাতে পায়ের ভারে থেমে গেছে ঝিঁঝি পোকাদের গান অন্তর যায় কেঁপে কেঁপে পিনপতন নিস্তব্ধতায় রাতের অন্ধকারে কোন কথা বেজে উঠেছিল তোমার অন্তরে বেজেছি কি অনুনাদ হয়ে পাওনি নাগাল পাওনি টের, পাওনি শুনতে থেমে গেছে তারা তাদের সেই নিভৃত কথা তোমার আর শোনা হবে না।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ইরানি চা

মচমচে সমুচার মতো রংবাহার গোলাকার পৃথিবীর মতো একপেয়ালা কাপে সজ্জিত দুধের মতো ছানা জিলেলপির মতো প্যাঁচানো রংধনুর রং তুলির টানের মতো অঙ্কন করা দুধের মতো মাখন।   ইরানের ষোড়শী তরুণীর মতো লোভনীয় চা শেখ সাদীর হাতের কফির মতো রঙিন তার অবয়ব ওমর খৈয়ামের মতো রোমাঞ্চকর  দুধের প্রলেপে মুড়িয়ে দেয়া ক্রিম নারীর চোখের মতো চৌকস; যৌবনভরা পুকুরের মতো টইটুম্বুর কাপে ভরা চা ইরানি নারীর চোখের মতো এখনো দৃষ্টিতে স্থির হয়ে আছে ইরানের এক কাপ চা।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
আনকোরা

বন্ধক রেখেছি অনুভব ঋণ বাড়ছে প্রতিদিন তোমার গোপন লকারে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আছে তাই ছেড়ে যাচ্ছ না আমিও হয়ে আছি তুমিমুখী অথচ কিছু হতাশা ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখতে পারতে জানো তো- হাহাকার কতটা নিষ্টুর! কান্নাহীন চোখ শূন্যতার সমুদ্র এবং তুমি জানো আমি এমন কিছু মেঘের খোঁজ জানি যারা এর আগে পৃথিবীতে বৃষ্টি হয়ে আসেনি আনকোরা কিছু অশ্রু তোমার খুব প্রয়োজন।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
শেষের অনুশোচনা

মোবারক হোসেন ছিলেন শহরের প্রান্তে ছোট একটি ব্যবসার মালিক। সারা জীবন হিসাবি, কিপ্টে ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে তাঁর সুনাম কখনো গড়ে ওঠেনি। ছেলেবেলায় তাঁর পরিবার অভাবী ছিল, কিন্তু মা-বাবা সব সময় চেষ্টা করতেন সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করতে। অথচ সেই মোবারক সামান্য টাকা জমাতে গিয়ে মা-বাবার ওষুধ কেনা থেকেও পিছপা হয়েছেন। আত্মীয়স্বজনের বিপদে কখনো একটি পয়সা দেননি, এমনকি বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে দূরে থেকেছেন কেউ ধার চেয়ে বসে এই ভয়ে। সময়ের সাথে সাথে মোবারকের ব্যবসা জমে উঠল। দোকান থেকে উপার্জিত টাকা তিনি ব্যাংকে জমাতেন, ফিক্সড ডিপোজিট করতেন, আর স্বর্ণ কিনে লুকিয়ে রাখতেন পুরোনো ট্রাংকে। কেউ জানত না তাঁর আসল সম্পদের পরিমাণ। অথচ নিজের বাড়িটাও পুরোনো, ফাটল ধরা দেয়ালে ভরা। সেখানেই থাকতেন একাকী, রান্নার কাজ করতেন নিজেই, যেন একটা ডিমও অপচয় না হয়। বয়স যখন ষাট পেরিয়েছে, তখন হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটি বাগানবাড়ি বানাবেন শহরের বাইরে। শেষ বয়সে একটু খোলামেলা পরিবেশে থাকা যাবে, এই যুক্তি দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ করলেন। বাড়িটি বানাতে গিয়ে বহু শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিলেন। মোবারক বাড়ির সব খরচ নিজ হাতে হিসাব রাখতেন। ঘরগুলো আধুনিক, দেয়ালে কাঠের কারুকাজ, বারান্দায় দোলনা — সবই পরিপাটি, নিখুঁত। কিন্তু তবুও কেউ ছিল না পাশে। তিন বছর পর ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করলেন মোবারক। বড় গেট, ফুলে ভরা বাগান, হাঁটার পথ, বিশ্রামের ছায়া — সবই ছিল, কিন্তু সঙ্গী বলতে কেউ ছিল না। একদিন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলেন। গা কাঁপুনি, জ্বর, দুর্বলতা। স্থানীয় ডাক্তার প্রথমে পাত্তা দিলেন না। কিন্তু দিন পেরোতে না পেরোতেই বোঝা গেল সমস্যাটা গুরুতর। শহরে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করালেন। ধরা পড়ল প্যানক্রিয়াস ক্যান্সার, তৃতীয় স্টেজ। হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে মোবারক প্রথমবারের মতো ভাবলেন, এই বিশাল বাড়ি, জমানো টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স — সবই কেমন অর্থহীন লাগছে! জীবন এতটাই ক্ষণস্থায়ী, অথচ তিনি সারা জীবন কাটালেন হিসেব কষে। বাবার জীবনের শেষ সময়ে একটা ইনহেলার কেনেননি, মায়ের চোখে ছানি অপারেশনের খরচ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ভাতিজার পড়াশোনার খরচ না দেয়ায় কলেজে ভর্তি হতে পারেনি ছেলেটি। আজ সেই মোবারকের পাশে কেউ নেই। এক সন্ধ্যায় হাসপাতালের জানালায় তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে উঠল তাঁর। ছোট একটি মেয়ে পাশের রোগীকে তার বাবাকে ফল খাওয়াচ্ছে। দৃশ্যটি তাঁকে মনে করিয়ে দিল, তাঁর একটাই দোষ, ‘ভয় আর অবিশ্বাসে ভরা এক হৃদয়’। তিনি ভালোবাসতে পারেননি, কাউকে বিশ্বাস করতে পারেননি, এমনকি কাছের লোকজনকেও সাহায্য করতে পারেননি। টাকা ছিল, হৃদয় ছিল না। মোবারক সেই রাতে একজন নার্সকে ডেকে বললেন, “একটা কাজ করে দেবে মা?” নার্স বলল, “বলুন কাকা।” তিনি বললেন, “এই চিঠিটা আমার এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবকে পৌঁছে দেবে। আর যদি আমি বেঁচে না থাকি, আমার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে সব কাগজ ও টাকা আমার গ্রামের দরিদ্র লোকজনের জন্য ওয়াকফ করে দিয়ো।” চিঠিতে তিনি তাঁর কিপ্টামির স্বীকারোক্তি লিখেছিলেন। ক্ষমা চেয়েছিলেন মা-বাবার কাছেও। আর সব সম্পত্তি দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এতিমখানা, হাসপাতাল এবং গ্রামের দরিদ্রদের জন্য। দুদিন পর মোবারক হোসেন মারা গেলেন। কেউ খুব একটা কাঁদেনি, কিন্তু তাঁর চিঠি যখন প্রকাশিত হলো, তখন অনেকের চোখে পানি এসেছিল। এক কাপুরুষ, কিপ্টে মানুষ শেষ জীবনে বুঝেছিলেন, মানুষের জীবনের আসল সম্পদ টাকা নয়, বরং সম্পর্ক, সহানুভূতি আর উদারতা। তাঁর তৈরি বাগানবাড়িটি এখন এক বৃদ্ধাশ্রম, যেখানে অনাথ ও অসহায় বৃদ্ধরা বসবাস করেন। তাঁর কিপ্টে জীবনের শেষ অধ্যায়ে পাওয়া অনুশোচনাই হয়তো মানুষের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি হয়ে রয়ে গেল — একটা নিঃশব্দ শিক্ষা।

আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

  চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৮ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, কমিশনিং, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে ড. জাহেদুল হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, পরিচালনা, আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।  ড. জাহেদুল হাসান বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক স্বাধীন কারিগরি, নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে এর প্রতিটি ধাপ পরিচালিত হয়।  তিনি জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) প্রকল্পের মালিক হিসেবে নির্মাণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং স্থাপনা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড আইন অনুযায়ী কেন্দ্রটির অপারেটিং অর্গানাইজেশন। কমিশনিং, নিরাপদ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে ডিকমিশনিং পর্যন্ত সব অপারেশনাল দায়িত্ব এনপিসিবিএলের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করছে। কমিশনিং কার্যক্রমের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের জন্য বিএইবিএ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভিও সেফটিকে এক্সপার্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সিআরইএ কমিশনিং, অপারেশনাল প্রস্তুতি, অপারেটর প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান স্থানান্তরে এনপিসিবিএলকে সহায়তা করছে। রাশিয়ার স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা Rostechnadzor গুরুত্বপূর্ণ কমিশনিং পর্যায়ে বিএইআরএর সঙ্গে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন Peer Review Mission ও Technical Review পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। ড. জাহেদুল বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করেই গ্রহণ করা হয়। এনপিসিবিএল এখনো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি—এমন সমালোচনার বিষয়ে ড. জাহেদুল বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সরকার এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। শত শত প্রকৌশলী, অপারেটর, রিঅ্যাক্টর বিশেষজ্ঞ, রসায়নবিদ, বিকিরণ সুরক্ষা কর্মকর্তা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী রাশিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা Full Scope Simulator, On-the-Job Training এবং Classroom Training-সহ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অপারেটরকে বিএইআরএর কঠোর লাইসেন্সিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়। একই সময়ে সিআরইএর বিশেষজ্ঞরা কমিশনিং পর্যায়ে এনপিসিবিএলের কর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্থানান্তর নিশ্চিত করছেন। ফলেএনপিসিবিএল বর্তমানে প্রযুক্তিগত, অপারেশনাল ও প্রাতিষ্ঠানিক—সব দিক থেকেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি সক্ষম Operating Organization হিসেবে গড়ে উঠেছে।  স্পেন্ট ফুয়েল (ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি) ব্যবস্থাপনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি—এমন আলোচনার প্রসঙ্গে ড. জাহেদুল বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শিল্পের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মধ্যে চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও টিভিইলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইএইএর নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রিঅ্যাক্টর থেকে অপসারণের পর তাৎক্ষণিকভাবে অন্য দেশে পাঠানো হয় না। প্রথমে কেন্দ্রের নকশার অংশ হিসেবে নির্মিত স্পেন্ট ফুয়েল পোলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ ও শীতলীকরণ করা হয়, যা বিশ্বের সব আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেই অনুসরণ করা হয়।   পরবর্তীতে বিদ্যমান আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি, বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ভিবিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টদের মতে, রিয়্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।  

কামিনীর গন্ধে তুমি

আকাশের নীলে কীবা কবিতার মিলে না গোলাপের সুরভিতে ডানা মেলা চিলে না। গোধূলির রং এসে সন্ধ্যায় যায় মেশে কোথাও তো নেই তুমি গল্পের শুরু-শেষে।   চাদরের আদরে না না ভোরের রবিতে না শিমুল কোলে থাকা কোকিলের ছবিতে। রিমঝিম টুপটাপ বরষার ছন্দে তোমাকেই খুঁজে পাই কামিনীর গন্ধে।  

তোমাকেই প্রয়োজন

অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে পৃথিবীর ভাগ্যাকাশ শুরু হয়েছে একের পর এক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ; মহামারি চলছে পাল্লা দিয়ে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পশুত্ব গিলছে মনুষ্যত্ব অ-অনুমেয়— কতটা লম্বা মৃত্যুর মিছিল?   অশান্ত, ভীষণ প্রকৃতি এখন। ধৈর্য, সহনশীলতার হয়েছে অকালমৃত্যু দানবীয় শক্তিতে জ্বলে উঠেছে আগ্নেয়গিরি। বিষাক্ত বিষ উদগিরিত হচ্ছে গলগলিয়ে লাভার তাপে অঙ্গার হলো পাখির নীড়।   এমন দুর্যোগকালীন সময়ে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। কেবল তুমিই জানো স্বার্থের বেড়া ভেঙে প্রেমের কুটির রচনার মন্ত্র। তুমিই পারো ধ্বংসস্তূপকে রূপ দিতে শৈল্পিক।   এমন ধবধবে ভূতুড়ে দিনে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। তোমার জাদুকরি শব্দরাই পারবে মোহের ঝকমকি সরিয়ে জাগ্রত পতাকা ওড়াতে। তোমার আগুনঝরা কথা স্ফুলিঙ্গের মতো ঘুরবে কালের আকাশে।  

বাবারা এমনই

পিঠে পেট ঠেকেছে, তবু আনন্দ-বেসাতির কমতি নেই রোদে পুড়ে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে  একটা মানুষ জীবন-যুদ্ধে লড়ে যায় অহর্নিশি প্রসন্নতার আলপথে খোঁজে কষ্টের সুখ চোখের দীপ্র জ্যোতিতে প্রিয় সন্তানের মুখ কষ্টের টানাপোড়েনেও বাবা যেন সাঁকো বাঁধা সেতু- জীবন-নদীর দুই তীর অপত্য স্নেহে আগলে বেঁধে রাখে। নদীর স্রোত কোথাও খরস্রোতা, কোথাও ধীর লয় রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে পরিশ্রমী বাবারা এমনই বহমান নদী।

Top week

শেষের অনুশোচনা
সাহিত্য

শেষের অনুশোচনা

জুলাই ২০, ২০২৬ 0