Breaking news

বাংলাদেশ

প্যারিস মেইল প্রবাস ও বাংলাদেশের সেতুবন্ধ
প্যারিস মেইল প্রবাস ও বাংলাদেশের সেতুবন্ধ

আমরা বাংলাদেশিরা যখন দেশ ছেড়ে প্রবাসে আসি, তখন দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও পলে পলে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও টান অনুভব করি সব সময়। মনে হয়, দেশে থাকতে যতটা মাতৃভূমিকে উপলব্ধি করেছি, বিদেশে এসে সেটা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে, মা-বাবা ও আত্মীস্বজনকে যতটা মনে পড়ে, তার চেয়ে বেশি মনে পড়ে দেশকে।   বিদেশে এসে আমরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যা আয় করি, তার পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে দিই। এতে করে আমাদের পরিবার যেমন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে, তেমনি দেশ লাভবান হয় রেমিট্যান্স পেয়ে। এই আত্মতৃপ্তিই আমাদের একমাত্র পাওয়া।   প্রবাস কোনো মতেই সুখের জায়গা নয়। এখানে এসে পদে পদে আমাদের ঠকতে হয়, প্রতারিত হতে হয়, কষ্ট ভোগ করতে হয়, এরপর অনেক কিছু শিখতে হয়, যার অভিজ্ঞতা জীবনে কাজে লাগানোর আগেই অনেককে দেশে ফিরতে হয় শূন্য হাতে অথবা লাশ হয়ে। অনেকে আবার সফলতার সাথে দেশে ফেরেন; কেউ আবার স্থায়ী হন বিদেশেই।    বিদেশের মাটিতে আমাদের সহযোগিতা করার মতো মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এ কারণে নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলা, এমনকি আমরা যাতে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারি, সেই বিষয়টা যাতে আমাদের দেশ, দেশের সরকার গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসীদের মুখপত্র হিসেবে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ প্যারিস মেইল।   আমরা আশাবাদী, বিশ্বের সব প্রবাসী বাংলাদেশি প্যারিস মেইলের মাধ্যমে তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা সবার সাথে শেয়ার করার সুযোগ পাবেন। আমরা সেসব কথা বাংলাদেশ সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করব।   প্যারিস মেইল শুধু একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নয়, এটি হয়ে উঠবে প্রবাসীদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর; অধিকারের কথা নির্বিঘ্নে প্রকাশ করার একটি সুদৃঢ় মাইক্রোফোন।   প্রবাসীরা দূরে থাকলেও মা ও মাতৃভূমি থাকে আমাদের শয়নে, স্বপনে ও জাগরণে। আমাদের সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব অর্থনীতির প্রথম কাতারে আবস্থান করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।   বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্রবাসী পাসপোর্ট
প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণ: বিশেষ সেবা ও নতুন সময়সূচি

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কনস্যুলার সেবা সহজতর করতে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস নতুন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি দূতাবাস আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে বৈধতার আবেদনের জন্য প্রবাসীদের বিশেষ পাসপোর্ট সেবা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, ৩ জুন চালু হওয়া অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা প্রবাসীদের ভোগান্তি কমিয়ে পাসপোর্ট সেবায় স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। তিনি এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধার্থে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সেবা দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্রবাস কার্ড
আগস্টে আসছে প্রবাসীদের ১০ সুবিধার ‘প্রবাসী কার্ড’

প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধাদানের লক্ষ্যে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কার্ডের মাধ্যমে ১০টি বিশেষ সুবিধা প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে এর আওতায় আনা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমানবন্দর লাউঞ্জ ও মিট অ্যান্ড গ্রিট সুবিধা, টিকিট ও হোটেলে বিশেষ ছাড়, সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় পাবেন। এছাড়া কার্ডধারীর মৃত্যুতে মরদেহ দেশে পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন, বীমা সুবিধা এবং জমি রেজিস্ট্রেশন ও ইউটিলিটি সেবায় অগ্রাধিকারের মতো সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সহজ ঋণ সুবিধা এবং পাসপোর্ট-কনস্যুলার সেবায় কার্ডধারীরা বাড়তি গুরুত্ব পাবেন। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুন নাগাদ ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে কার্ডের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
কনস্যুলট জেনারেল মিটিং
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের নিয়ে কনস্যুলেটের সচেতনতামূলক সভা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি বিশেষ মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি, আজমানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুবাই ও উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আমিরাতের প্রচলিত বিধি-বিধান এবং স্থানীয় রীতি-নীতি যথাযথভাবে অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া প্রবাসীরা তাদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও বিভিন্ন সেবা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং কনস্যুলেট প্রতিনিধিরা এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বন্ধুত্বের করকমলে
বন্ধুত্বের করকমলে

(প্রথম পর্ব) একদিন সম্পর্কের বাজারে গিয়েছিলাম। বাজারটা অদ্ভুত! সেখানে আলু-পেঁয়াজ, কাপড়-চোপড়, সোনা-রুপা কিছুই বিক্রি হয় না। শুধু সর্ম্পক। ছোট ছোট দোকানে সাজানো আছে মানবতা, ভালোবাসা, বিশ্বাস, দায়িত্ব, আত্মীয়তা, স্বার্থ, ক্ষমতা, যেন মানুষের জীবনকে টুকরো টুকরো করে তুলে রাখা হয়েছে।   একজন দোকানির সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই সে মাথা তুলে তাকাল— কী চাই? আমি বললাম— একটু সর্ম্পক। সে হেসে বলল— কোনটা? মানবতার, না ভালোবাসার? বিশ্বাসের, না ব্যবসার? আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম— বন্ধুত্বের। লোকটা তখন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকাল। যেন বহুদিন পরে কোনো বিলুপ্ত শব্দ শুনেছে। তারপর ধীরে ধীরে বলল— জনাব, পৃথিবী এখনো যে কটা কারণে টিকে আছে, বন্ধুত্ব তার মধ্যে একটা। কিন্তু দুঃখিত, এই জিনিসি বিক্রির জন্য নয়।   সেদিন দোকান থেকে বেরিয়ে এসে অনেকক্ষণ হাঁটলাম। মনে হচ্ছিল, লোকটা বোধহয় সত্যি কথা বলেছে।   চারপাশে কত মানুষ! বিমানবন্দরে মানুষ, রেলস্টেশনে মানুষ, বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষ, অফিসে মানুষ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ। মানুষ আর মানুষ। কিন্তু বন্ধু? বন্ধু যেন বর্ষার দিনে মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একা কদমগাছ। আছে কিন্তু সহজে পাওয়া যায় না।   প্রবাসে এসে এই অভাবটা আরও বেশি টের পাই। একেক দিন শরীর ভালো থাকে না; একেক দিন মন। আবার কোনো কোনো দিন দুটোই ভালো থাকে না।   সেই দিনগুলোতে খুব ইচ্ছে করে পাশে বসে কেউ নির্বিকার মুখে এক কাপ চা খেতে খেতে বলুক— তোর চেহারা দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর শেষ দিন আজ। তারপর দুজন মিলে হাসতে হাসতে পৃথিবীর শেষ দিনটাও পার করে দেয়া যেত।   এখানে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। একসঙ্গে খয়েছি, গল্প করেছি, লং ড্রাইভে গিয়েছি, ইউরোপের পুরোনো শহরে হাঁটাহাঁটি করেছি, আমেরিকার সরল রেখার মতো দীর্ঘ মহাসড়কে গাড়ি চালাতে চালাতে সূর্যাস্ত দেখেছি। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, পরিচয় হয়েছে অনেক, বন্ধুত্ব হয়নি তেমন।   আজকাল সর্ম্পকগুলো কেমন যেন মোবাইল ফোনের অ্যাপের মতো। ডাউনলোড করা যায় সহজে, আবার ডিলিট করাও সহজ।   একটি অপছন্দের মন্তব্য। একটি ভিন্ন মত। একটি না-পছন্দ সিদ্ধান্ত। ব্যস, সম্পর্কের সমাপ্তি। তখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বন্ধুদের কথা মনে পড়ে। তারা ছিল অন্য রকম। আমাদের কাছে তখন পৃথিবী ছিল ছোট। কিন্তু বন্ধুত্ব ছিল বিশাল। আমাদের জাতিসংঘ ছিল না, ছিল বন্ধুসংঘ। আমাদের পাখা ছিল না, কিন্তু উড়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। ঘাসফড়িংয়ের পেছনে দৌড়ানোর সময় ছিল। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় ছিল। বৃষ্টির শব্দ শোনার সময় ছিল। কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে জ্যোৎস্না গুনে গুনে ভোর করে দেয়ার সময় ছিল। আমরা তখন জানতাম না পৃথিবী কত জটিল! জানতাম না মানুষ একদিন এত ব্যস্ত হয়ে যাবে। শুধু জানতাম, বিকেলে মাঠে দেখা হবে। এই জানাটুকুই যথেষ্ট ছিল। আজ বুঝি, মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিনিস নয়, সময় হারায়। আমি বাংলাদেশকে যতটা মিস করি, তার চেয়েও বেশি মিস করি বাংলাদেশের কিছু সময়কে। ঝুমবৃষ্টির দুপুর। বর্ষণমুখর সন্ধ্যা। শীতের সকাল। ডিমভরা পুঁটি মাছ ভাজা ঘ্রাণ। ধানখেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া বিকেল। আর মিস করি সেই সব মানুষকে যাদের সঙ্গে কোনো প্রয়োজন ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা যেত।   একবার একজন জিজ্ঞেস করেছিল— বাংলাদেশে যাচ্ছি, তোর জন্য কী আনব? আমি বলছেলিাম— যদি পারিস, চৈত্রদিনের একটা ঘুঘু-ডাকা দুপুর নিয়ে আয়। সে ভেবেছিল আমি মজা করছি। আসলে করিনি। মানুষের জীবনে একটা সময় আসে, যখন সে বস্তু নয়, মুহূর্ত সংগ্রহ করতে চায়। আমাদেরও মনে হয় সেই সময় এসেছে। ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতেও কোনো ঘড়ি ছিল না। আম্মা শুকতারা দেখে ভোরের সময় আন্দাজ করতেন। তারপর আমাকে ডাকতেন। আমি আধোঘুমে চোখ খুলে বলতাম— এখনো তো অন্ধকার। আম্মা বলতেন— আগে শুরু কর বাবা। পড়তে পড়তে সব আলো হয়ে যাবে। বহু বছর কেটে গেছে। আমি এখনো পড়ছি। কতটুকু আলো হলো জানি না। তবে এটুকু বুঝেছি, মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আলোগুলো বই থেকে আসে না। আসে মানুষ থেকে। বন্ধু থেকে। ভালোবাসা থেকে। স্মৃতি থেকে।   এই যে আজ এত দূরে বসে আছি, হাজার হাজার মাইল দূরে, তবু কোনো কোনো সন্ধ্যায় হঠাৎ মনে হয়, ক্যাম্পাসের কোনো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। বন্ধুরা পাশে আছে। কেউ রাজনীতি নিয়ে তর্ক করছে। কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পৃথিবী ধ্বংসের ঘোষণা দিচ্ছে। কেউ আবার অবলীলায় পকেট থেকে শেষ দশ টাকা বের করে সবাইকে চা খাওয়াচ্ছে। সেই সব বিকেল কোথায় গেল? কোথায় গেল সেই মানুষগুলো? আমরা কি সত্যিই বড় হয়ে গেছি? নাকি শুধু দূরে সরে গেছি? বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা বিষয় বুঝেছি। মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ সম্পর্কগুলো অনেক সময় নিয়মিত যোগাযোগে বেঁচে থাকে না। বেঁচে থাকে বিশ্বাসে। কোনো কোনো বন্ধুর সঙ্গে বছরের পর বছর কথা হয় না। তার পরও গভীর রাতে ফোন করলে সে বলবে— বল, কী হয়েছে? এবং এই একটি প্রশ্নই যথেষ্ট। কারণ সত্যিকারের বন্ধুত্বের অভিধানে ‘কেন’ শব্দটা খুব কম থাকে। সেখানে থাকে শুধু— ‘আমি আছি।’   [চলবে]  

জুলাই ১৯, ২০২৬ 0
আইন ও বিচার বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বাজেট প্রস্তাব

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট পেশ করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালন খাতে ১ হাজার ৯৯৮ কোটি ৮৬ লাখ এবং উন্নয়ন খাতে ১৮৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যার মূল প্রতিপাদ্য হলো 'ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ'। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আইন বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৫৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা এবার সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে নতুন কার্ড প্রবর্তনের ঘোষণাও এসেছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ক টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, এক টাকায় বিচার বিভাগ পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সংসদে বাজেট বরাদ্দ ছাঁটাই করে এক টাকা করার প্রস্তাবের জবাবে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিচার বিভাগ অচল হয়ে দেশ একসময় পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করেন আইনমন্ত্রী। এর বিপরীতে বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিচার বিভাগের সংকট, মামলাজট এবং বাজেট স্বল্পতার কথা তুলে ধরে বরাদ্দ এক টাকা করার ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন। সভায় বিরোধী দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বিচারক সংকট এবং জিডিপিতে বিচার বিভাগের নামমাত্র বরাদ্দ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। সংসদ সদস্যদের এসব বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো স্ববিরোধী এবং কার্যপ্রণালি বিধির পরিপন্থি। তিনি বলেন, এক টাকা বরাদ্দ দিয়ে বিচার বিভাগ চালানোর কোনো বিকল্প প্রস্তাব সংসদ সদস্যরা দিতে পারেননি। সংসদ সদস্যদের দাবিকে ‘জনপ্রিয় কিন্তু ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান বাস্তবতায় এই বাজেট বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও, তা মেনে নেওয়া ছাড়া আপাতত বিকল্প নেই। এরপর ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
মানব পাচার ও চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক এক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে পুলিশ, বিচার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। সদ্য প্রণীত এই আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়ানোয় নতুন আইনটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে সরকার। সভায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আইনটির বিধান ও প্রয়োগের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ২২তম ওরিয়েন্টেশন কোর্স: ৪০ বিচারককে মনোনয়ন

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) আয়োজিত ২২তম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের জন্য ৪০ জন বিচারককে মনোনয়ন দিয়েছে আইন ও বিচার বিভাগ। রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আগামী ১১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ঢাকার জেএটিআই কেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে মনোনীত বিচারকদের তালিকায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। এছাড়া আইন বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, আনসার ও ভিডিপি এবং কাস্টমস ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারিক কর্মকর্তারাও এই কোর্সে অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা নিয়ম অনুযায়ী টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) পাবেন। মনোনীত বিচারকদের কোর্সে যোগ দেওয়ার আগে জেএটিআই-এর ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি: চেরনোবিল-ফুকুশিমার সঙ্গে তুলনা অমূলক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রূপপুরে ব্যবহৃত থার্ড-জেনারেশন প্রযুক্তির কারণে চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমেই এর নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান জানান, রূপপুরে অত্যাধুনিক Generation-III+ VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অতীতের সব পারমাণবিক দুর্ঘটনার শিক্ষা থেকে তৈরি। কেন্দ্রটিতে কোর ক্যাচার, প্যাসিভ হিট রিমুভাল সিস্টেম এবং ডাবল কন্টেইনমেন্টের মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যেকোনো পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম। কমিশনিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত কঠোর একটি শিল্পপ্রক্রিয়া, যা তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), আইএইএ (IAEA) এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো ধরনের কারিগরি দুর্বলতা নয়, বরং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রতিটি পরীক্ষা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাই প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বন্যা-পরবর্তী রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

বন্যা-পরবর্তী সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ঢলু খালের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এ কথা জানান। তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সম্পূর্ণ পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, দুর্গত এলাকায় রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। এবারের বন্যায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলমান এই সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার পরিবারকে চালসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
দেশে হাম ও উপসর্গে ৭৮০ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪ হাজার ছাড়াল

দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ৭৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের প্রাণহানি এবং নতুন করে ১৪০ জনের রোগটি শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৪ হাজার ২৪৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন। অধিদপ্তর জানায়, মৃতদের মধ্যে ৯৫ জন নিশ্চিতভাবে হামে এবং বাকি ৬৮৫ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এছাড়া আলোচিত সময়ে এক লাখেরও বেশি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলেও, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের বড় অংশই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
দেশের স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন: শিগগিরই আসছে ‘ই-হেলথ কার্ড’

দেশের স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এই তথ্য জানান। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল রোডম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ই-হেলথ কার্ড হলো নাগরিকদের একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর পূর্বের সব রোগের ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট ও ওষুধের বিবরণ মুহূর্তেই দেখতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে গত দুই বছর ধরে এই ডিজিটাল রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
চিকিৎসা অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে ২৭ সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসা অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল মেডিকেল অক্সিজেন রোডম্যাপ (২০২৬–২০৩০)’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কর্মপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে সভাপতি করে ২৭ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা। এতে স্বাস্থ্য ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, বুয়েট এবং আইসিডিডিআর,বি-এর বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা যুক্ত আছেন। এই কমিটির প্রধান কাজ হলো চিকিৎসা অক্সিজেনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং একটি কার্যকর জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করা। এর মাধ্যমে দেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের সহজলভ্যতা নিশ্চিতের পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
জুন মাসে ৩৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা

সদ্য বিদায়ী জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রবাসী আয়ের এই সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো সময়ে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। তবে আগের মাসগুলোর ধারাবাহিকতার তুলনায় জুনে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। গত বছরের জুনেও দেশে ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে টিসিবি

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি পণ্য বিতরণের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন সভায় এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণের একটি রূপরেখা নিয়ে এসব আলোচনা হয়। সভায় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, দরপত্রে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়লে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য কমবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্ভুল ব্যয় প্রাক্কলনের ওপর তিনি জোর দেন। এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে শিগগিরই একটি কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে, ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে টিসিবির পণ্য তালিকায় আরও নতুন সামগ্রী যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে একটি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে পুরোপুরি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, ব্লু-ইকোনমি ও ইকো-ট্যুরিজম খাতে ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি আরও সহজ ও কার্যকর করতে যুবসমাজের জন্য চাহিদাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন ভাষা শেখানো এবং যুগোপযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দুর্বল অর্থনীতির মধ্যেও দেশ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সব বাধা দূর করে তরুণ ও উদ্যোক্তাদের কাজে লাগানোর মাধ্যমেই একটি প্রত্যাশিত ও টেকসই বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বন্দরের ‘বে টার্মিনাল’ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তাবিত ‘বে টার্মিনাল’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে তা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, এই টার্মিনাল চালু হলে বন্দরে সরাসরি বড় মাদার ভেসেল ভিড়তে পারবে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানির পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বন্দরটিকে দেশের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোনো ধরনের অপচয় রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। নাব্যতা সংকটের কারণে বর্তমানে বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে আসতে পারে না। বে টার্মিনাল নির্মিত হলে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকারের বড় উদ্যোগ: লক্ষ্য ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বিকাশে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সদ্য পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করা হবে। এসব হাবে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিনেপ্লেক্স এবং স্থানীয় পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, তাঁত, নকশিকাঁথাসহ দেশীয় পণ্যের প্রসার ঘটানো হবে। বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা জানান, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামীণ তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগালে বিপুল উদ্যোক্তা তৈরি হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন মনে করেন, দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক হাব গড়ে উঠলে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য আয়ের নতুন পথ উন্মুক্ত হবে। এ খাতের প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও সহজ শর্তে ও বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
শেষের অনুশোচনা

মোবারক হোসেন ছিলেন শহরের প্রান্তে ছোট একটি ব্যবসার মালিক। সারা জীবন হিসাবি, কিপ্টে ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে তাঁর সুনাম কখনো গড়ে ওঠেনি। ছেলেবেলায় তাঁর পরিবার অভাবী ছিল, কিন্তু মা-বাবা সব সময় চেষ্টা করতেন সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করতে। অথচ সেই মোবারক সামান্য টাকা জমাতে গিয়ে মা-বাবার ওষুধ কেনা থেকেও পিছপা হয়েছেন। আত্মীয়স্বজনের বিপদে কখনো একটি পয়সা দেননি, এমনকি বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে দূরে থেকেছেন কেউ ধার চেয়ে বসে এই ভয়ে। সময়ের সাথে সাথে মোবারকের ব্যবসা জমে উঠল। দোকান থেকে উপার্জিত টাকা তিনি ব্যাংকে জমাতেন, ফিক্সড ডিপোজিট করতেন, আর স্বর্ণ কিনে লুকিয়ে রাখতেন পুরোনো ট্রাংকে। কেউ জানত না তাঁর আসল সম্পদের পরিমাণ। অথচ নিজের বাড়িটাও পুরোনো, ফাটল ধরা দেয়ালে ভরা। সেখানেই থাকতেন একাকী, রান্নার কাজ করতেন নিজেই, যেন একটা ডিমও অপচয় না হয়। বয়স যখন ষাট পেরিয়েছে, তখন হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটি বাগানবাড়ি বানাবেন শহরের বাইরে। শেষ বয়সে একটু খোলামেলা পরিবেশে থাকা যাবে, এই যুক্তি দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ করলেন। বাড়িটি বানাতে গিয়ে বহু শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিলেন। মোবারক বাড়ির সব খরচ নিজ হাতে হিসাব রাখতেন। ঘরগুলো আধুনিক, দেয়ালে কাঠের কারুকাজ, বারান্দায় দোলনা — সবই পরিপাটি, নিখুঁত। কিন্তু তবুও কেউ ছিল না পাশে। তিন বছর পর ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করলেন মোবারক। বড় গেট, ফুলে ভরা বাগান, হাঁটার পথ, বিশ্রামের ছায়া — সবই ছিল, কিন্তু সঙ্গী বলতে কেউ ছিল না। একদিন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলেন। গা কাঁপুনি, জ্বর, দুর্বলতা। স্থানীয় ডাক্তার প্রথমে পাত্তা দিলেন না। কিন্তু দিন পেরোতে না পেরোতেই বোঝা গেল সমস্যাটা গুরুতর। শহরে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করালেন। ধরা পড়ল প্যানক্রিয়াস ক্যান্সার, তৃতীয় স্টেজ। হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে মোবারক প্রথমবারের মতো ভাবলেন, এই বিশাল বাড়ি, জমানো টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স — সবই কেমন অর্থহীন লাগছে! জীবন এতটাই ক্ষণস্থায়ী, অথচ তিনি সারা জীবন কাটালেন হিসেব কষে। বাবার জীবনের শেষ সময়ে একটা ইনহেলার কেনেননি, মায়ের চোখে ছানি অপারেশনের খরচ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ভাতিজার পড়াশোনার খরচ না দেয়ায় কলেজে ভর্তি হতে পারেনি ছেলেটি। আজ সেই মোবারকের পাশে কেউ নেই। এক সন্ধ্যায় হাসপাতালের জানালায় তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে উঠল তাঁর। ছোট একটি মেয়ে পাশের রোগীকে তার বাবাকে ফল খাওয়াচ্ছে। দৃশ্যটি তাঁকে মনে করিয়ে দিল, তাঁর একটাই দোষ, ‘ভয় আর অবিশ্বাসে ভরা এক হৃদয়’। তিনি ভালোবাসতে পারেননি, কাউকে বিশ্বাস করতে পারেননি, এমনকি কাছের লোকজনকেও সাহায্য করতে পারেননি। টাকা ছিল, হৃদয় ছিল না। মোবারক সেই রাতে একজন নার্সকে ডেকে বললেন, “একটা কাজ করে দেবে মা?” নার্স বলল, “বলুন কাকা।” তিনি বললেন, “এই চিঠিটা আমার এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবকে পৌঁছে দেবে। আর যদি আমি বেঁচে না থাকি, আমার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে সব কাগজ ও টাকা আমার গ্রামের দরিদ্র লোকজনের জন্য ওয়াকফ করে দিয়ো।” চিঠিতে তিনি তাঁর কিপ্টামির স্বীকারোক্তি লিখেছিলেন। ক্ষমা চেয়েছিলেন মা-বাবার কাছেও। আর সব সম্পত্তি দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এতিমখানা, হাসপাতাল এবং গ্রামের দরিদ্রদের জন্য। দুদিন পর মোবারক হোসেন মারা গেলেন। কেউ খুব একটা কাঁদেনি, কিন্তু তাঁর চিঠি যখন প্রকাশিত হলো, তখন অনেকের চোখে পানি এসেছিল। এক কাপুরুষ, কিপ্টে মানুষ শেষ জীবনে বুঝেছিলেন, মানুষের জীবনের আসল সম্পদ টাকা নয়, বরং সম্পর্ক, সহানুভূতি আর উদারতা। তাঁর তৈরি বাগানবাড়িটি এখন এক বৃদ্ধাশ্রম, যেখানে অনাথ ও অসহায় বৃদ্ধরা বসবাস করেন। তাঁর কিপ্টে জীবনের শেষ অধ্যায়ে পাওয়া অনুশোচনাই হয়তো মানুষের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি হয়ে রয়ে গেল — একটা নিঃশব্দ শিক্ষা।

আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

  চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৮ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, কমিশনিং, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে ড. জাহেদুল হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, পরিচালনা, আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।  ড. জাহেদুল হাসান বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক স্বাধীন কারিগরি, নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে এর প্রতিটি ধাপ পরিচালিত হয়।  তিনি জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) প্রকল্পের মালিক হিসেবে নির্মাণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং স্থাপনা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড আইন অনুযায়ী কেন্দ্রটির অপারেটিং অর্গানাইজেশন। কমিশনিং, নিরাপদ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে ডিকমিশনিং পর্যন্ত সব অপারেশনাল দায়িত্ব এনপিসিবিএলের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করছে। কমিশনিং কার্যক্রমের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের জন্য বিএইবিএ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভিও সেফটিকে এক্সপার্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সিআরইএ কমিশনিং, অপারেশনাল প্রস্তুতি, অপারেটর প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান স্থানান্তরে এনপিসিবিএলকে সহায়তা করছে। রাশিয়ার স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা Rostechnadzor গুরুত্বপূর্ণ কমিশনিং পর্যায়ে বিএইআরএর সঙ্গে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন Peer Review Mission ও Technical Review পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। ড. জাহেদুল বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করেই গ্রহণ করা হয়। এনপিসিবিএল এখনো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি—এমন সমালোচনার বিষয়ে ড. জাহেদুল বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সরকার এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। শত শত প্রকৌশলী, অপারেটর, রিঅ্যাক্টর বিশেষজ্ঞ, রসায়নবিদ, বিকিরণ সুরক্ষা কর্মকর্তা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী রাশিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা Full Scope Simulator, On-the-Job Training এবং Classroom Training-সহ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অপারেটরকে বিএইআরএর কঠোর লাইসেন্সিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়। একই সময়ে সিআরইএর বিশেষজ্ঞরা কমিশনিং পর্যায়ে এনপিসিবিএলের কর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্থানান্তর নিশ্চিত করছেন। ফলেএনপিসিবিএল বর্তমানে প্রযুক্তিগত, অপারেশনাল ও প্রাতিষ্ঠানিক—সব দিক থেকেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি সক্ষম Operating Organization হিসেবে গড়ে উঠেছে।  স্পেন্ট ফুয়েল (ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি) ব্যবস্থাপনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি—এমন আলোচনার প্রসঙ্গে ড. জাহেদুল বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শিল্পের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মধ্যে চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও টিভিইলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইএইএর নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রিঅ্যাক্টর থেকে অপসারণের পর তাৎক্ষণিকভাবে অন্য দেশে পাঠানো হয় না। প্রথমে কেন্দ্রের নকশার অংশ হিসেবে নির্মিত স্পেন্ট ফুয়েল পোলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ ও শীতলীকরণ করা হয়, যা বিশ্বের সব আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেই অনুসরণ করা হয়।   পরবর্তীতে বিদ্যমান আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি, বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ভিবিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টদের মতে, রিয়্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।  

কামিনীর গন্ধে তুমি

আকাশের নীলে কীবা কবিতার মিলে না গোলাপের সুরভিতে ডানা মেলা চিলে না। গোধূলির রং এসে সন্ধ্যায় যায় মেশে কোথাও তো নেই তুমি গল্পের শুরু-শেষে।   চাদরের আদরে না না ভোরের রবিতে না শিমুল কোলে থাকা কোকিলের ছবিতে। রিমঝিম টুপটাপ বরষার ছন্দে তোমাকেই খুঁজে পাই কামিনীর গন্ধে।  

তোমাকেই প্রয়োজন

অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে পৃথিবীর ভাগ্যাকাশ শুরু হয়েছে একের পর এক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ; মহামারি চলছে পাল্লা দিয়ে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পশুত্ব গিলছে মনুষ্যত্ব অ-অনুমেয়— কতটা লম্বা মৃত্যুর মিছিল?   অশান্ত, ভীষণ প্রকৃতি এখন। ধৈর্য, সহনশীলতার হয়েছে অকালমৃত্যু দানবীয় শক্তিতে জ্বলে উঠেছে আগ্নেয়গিরি। বিষাক্ত বিষ উদগিরিত হচ্ছে গলগলিয়ে লাভার তাপে অঙ্গার হলো পাখির নীড়।   এমন দুর্যোগকালীন সময়ে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। কেবল তুমিই জানো স্বার্থের বেড়া ভেঙে প্রেমের কুটির রচনার মন্ত্র। তুমিই পারো ধ্বংসস্তূপকে রূপ দিতে শৈল্পিক।   এমন ধবধবে ভূতুড়ে দিনে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। তোমার জাদুকরি শব্দরাই পারবে মোহের ঝকমকি সরিয়ে জাগ্রত পতাকা ওড়াতে। তোমার আগুনঝরা কথা স্ফুলিঙ্গের মতো ঘুরবে কালের আকাশে।  

বাবারা এমনই

পিঠে পেট ঠেকেছে, তবু আনন্দ-বেসাতির কমতি নেই রোদে পুড়ে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে  একটা মানুষ জীবন-যুদ্ধে লড়ে যায় অহর্নিশি প্রসন্নতার আলপথে খোঁজে কষ্টের সুখ চোখের দীপ্র জ্যোতিতে প্রিয় সন্তানের মুখ কষ্টের টানাপোড়েনেও বাবা যেন সাঁকো বাঁধা সেতু- জীবন-নদীর দুই তীর অপত্য স্নেহে আগলে বেঁধে রাখে। নদীর স্রোত কোথাও খরস্রোতা, কোথাও ধীর লয় রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে পরিশ্রমী বাবারা এমনই বহমান নদী।

Top week

শেষের অনুশোচনা
সাহিত্য

শেষের অনুশোচনা

জুলাই ২০, ২০২৬ 0