Breaking news

প্রবাসী

প্যারিস মেইল প্রবাস ও বাংলাদেশের সেতুবন্ধ
প্যারিস মেইল প্রবাস ও বাংলাদেশের সেতুবন্ধ

আমরা বাংলাদেশিরা যখন দেশ ছেড়ে প্রবাসে আসি, তখন দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও পলে পলে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও টান অনুভব করি সব সময়। মনে হয়, দেশে থাকতে যতটা মাতৃভূমিকে উপলব্ধি করেছি, বিদেশে এসে সেটা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে, মা-বাবা ও আত্মীস্বজনকে যতটা মনে পড়ে, তার চেয়ে বেশি মনে পড়ে দেশকে।   বিদেশে এসে আমরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যা আয় করি, তার পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে দিই। এতে করে আমাদের পরিবার যেমন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে, তেমনি দেশ লাভবান হয় রেমিট্যান্স পেয়ে। এই আত্মতৃপ্তিই আমাদের একমাত্র পাওয়া।   প্রবাস কোনো মতেই সুখের জায়গা নয়। এখানে এসে পদে পদে আমাদের ঠকতে হয়, প্রতারিত হতে হয়, কষ্ট ভোগ করতে হয়, এরপর অনেক কিছু শিখতে হয়, যার অভিজ্ঞতা জীবনে কাজে লাগানোর আগেই অনেককে দেশে ফিরতে হয় শূন্য হাতে অথবা লাশ হয়ে। অনেকে আবার সফলতার সাথে দেশে ফেরেন; কেউ আবার স্থায়ী হন বিদেশেই।    বিদেশের মাটিতে আমাদের সহযোগিতা করার মতো মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এ কারণে নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলা, এমনকি আমরা যাতে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারি, সেই বিষয়টা যাতে আমাদের দেশ, দেশের সরকার গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসীদের মুখপত্র হিসেবে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ প্যারিস মেইল।   আমরা আশাবাদী, বিশ্বের সব প্রবাসী বাংলাদেশি প্যারিস মেইলের মাধ্যমে তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা সবার সাথে শেয়ার করার সুযোগ পাবেন। আমরা সেসব কথা বাংলাদেশ সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করব।   প্যারিস মেইল শুধু একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নয়, এটি হয়ে উঠবে প্রবাসীদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর; অধিকারের কথা নির্বিঘ্নে প্রকাশ করার একটি সুদৃঢ় মাইক্রোফোন।   প্রবাসীরা দূরে থাকলেও মা ও মাতৃভূমি থাকে আমাদের শয়নে, স্বপনে ও জাগরণে। আমাদের সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব অর্থনীতির প্রথম কাতারে আবস্থান করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।   বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্রবাসী পাসপোর্ট
প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণ: বিশেষ সেবা ও নতুন সময়সূচি

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কনস্যুলার সেবা সহজতর করতে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস নতুন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি দূতাবাস আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে বৈধতার আবেদনের জন্য প্রবাসীদের বিশেষ পাসপোর্ট সেবা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, ৩ জুন চালু হওয়া অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা প্রবাসীদের ভোগান্তি কমিয়ে পাসপোর্ট সেবায় স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। তিনি এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধার্থে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সেবা দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত

ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসীরাসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং জুলাই গণআন্দোলনের তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, বর্তমান সরকার শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জুলাইয়ের চেতনা ও আত্মত্যাগ থেকে প্রেরণা নিয়ে বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্রবাস কার্ড
আগস্টে আসছে প্রবাসীদের ১০ সুবিধার ‘প্রবাসী কার্ড’

প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধাদানের লক্ষ্যে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কার্ডের মাধ্যমে ১০টি বিশেষ সুবিধা প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে এর আওতায় আনা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমানবন্দর লাউঞ্জ ও মিট অ্যান্ড গ্রিট সুবিধা, টিকিট ও হোটেলে বিশেষ ছাড়, সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় পাবেন। এছাড়া কার্ডধারীর মৃত্যুতে মরদেহ দেশে পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন, বীমা সুবিধা এবং জমি রেজিস্ট্রেশন ও ইউটিলিটি সেবায় অগ্রাধিকারের মতো সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সহজ ঋণ সুবিধা এবং পাসপোর্ট-কনস্যুলার সেবায় কার্ডধারীরা বাড়তি গুরুত্ব পাবেন। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুন নাগাদ ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে কার্ডের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
কনস্যুলট জেনারেল মিটিং
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের নিয়ে কনস্যুলেটের সচেতনতামূলক সভা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি বিশেষ মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি, আজমানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুবাই ও উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আমিরাতের প্রচলিত বিধি-বিধান এবং স্থানীয় রীতি-নীতি যথাযথভাবে অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া প্রবাসীরা তাদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও বিভিন্ন সেবা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং কনস্যুলেট প্রতিনিধিরা এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্যারিসে প্রবাসীদের বৈধতা পেতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ পাসপোর্ট সেবার ঘোষণা

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈধতা প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে বিশেষ পাসপোর্ট সেবার ঘোষণা দিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। যেসব অভিবাসী ইতোমধ্যে ফরাসি প্রিফেকচুরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট দিতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ ও ২২ আগস্ট শনিবার এই সেবা দেওয়া হবে। এসব নির্ধারিত দিনে কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রবাসীরা সরাসরি পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা প্রবাসী কমিউনিটি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিনের মোট স্লটের অর্ধেক অনলাইনে এবং বাকি অর্ধেক গত ১৫ মের আগে ইমেইলে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। এ সময় গত ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন ব্যবস্থা নিয়ে চলা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীরা বলছেন, এর ফলে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ফরাসি সরকারের বৈধতা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্যারিসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সেবায় ‘আদাফ’-এর নতুন কার্যক্রম শুরু

  ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রশাসনিক বিভিন্ন সেবা সহজ, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদারভাবে প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আদাফ সার্ভিস প্লাস (ADAF Service Plus)। উত্তর প্যারিসের ওবারভিলিয়ে শহরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসীদের জন্য সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ওয়াদুদ তানভীর বলেন, ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই আদাফ সার্ভিস প্লাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, সঠিক পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আদাফ সার্ভিস প্লাস ভবিষ্যতে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি বিশ্বস্ত সেবাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।   উল্লেখ্য, আদাফ সার্ভিস প্লাসের মাধ্যমে আবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক আবেদন, বসবাসের অনুমতিপত্র, জাতীয়তা, পারিবারিক ভিসা, সরকারি দপ্তরের আবেদনপত্র প্রস্তুত, অনুবাদসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হবে। একই প্রতিষ্ঠানের আওতায় আদাফ একাডেমির মাধ্যমে ফরাসি ভাষাশিক্ষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের সফলতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।  

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ইতালিতে অবৈধ প্রবাসীদের বৈধতায় সুখবর: আবেদন বাতিলের নিয়ম শিথিল করল আদালত

ইতালিতে বসবাসরত কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। নতুন রায় অনুযায়ী, কেবল শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেমে (এসআইএস) প্রশাসনিক সতর্কবার্তা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ২০২০ সালের ‘স্যানাটোরিয়া’ আবেদন সরাসরি বাতিল করা যাবে না। এখন থেকে প্রতিটি আবেদনকারীর কর্মসংস্থান, বসবাসের বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, ঢালাওভাবে আবেদন বাতিলের পুরনো নিয়মটি ইতালির সংবিধানের সমতা ও ন্যায্য আচরণের নীতির পরিপন্থী। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আগে যাদের আবেদন অবৈধ প্রবেশের কারণে আটকে ছিল বা বাতিল হয়েছিল, তারা এখন ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে তা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বৈধতার সুযোগ পেতে পারেন। তবে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার বা গুরুতর অপরাধে জড়িতরা এই আইনি সুবিধা পাবেন না।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
জুন মাসে ৩৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা

সদ্য বিদায়ী জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রবাসী আয়ের এই সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো সময়ে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। তবে আগের মাসগুলোর ধারাবাহিকতার তুলনায় জুনে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। গত বছরের জুনেও দেশে ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘ঋতুরঙ্গ মেলা ২০২৬’: প্রবাসী নারী উদ্যোক্তা ও দেশীয় সংস্কৃতির মিলনমেলা

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রবাসী নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও দেশীয় ঐতিহ্যের বর্ণাঢ্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঋতুরঙ্গ মেলা ২০২৬’। গত শনিবার স্থানীয় সালবাউ বর্নহাইম মিলনায়তনে জার্মান বাংলা চ্যানেল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। মেলায় দেশীয় পোশাক, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী সম্পাদক দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লব এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা কামরুল আহসান সেলিম। নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টলে জামদানি, দেশীয় পোশাক ও প্রসাধনীর পাশাপাশি ছিল নানা রকম বাঙালি খাবারের সমাহার। এমন আয়োজন প্রবাসে দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী আঁখি হালদারসহ স্থানীয় শিল্পীরা। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে গুণী শিল্পী, সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
Popular post
শেষের অনুশোচনা

মোবারক হোসেন ছিলেন শহরের প্রান্তে ছোট একটি ব্যবসার মালিক। সারা জীবন হিসাবি, কিপ্টে ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে তাঁর সুনাম কখনো গড়ে ওঠেনি। ছেলেবেলায় তাঁর পরিবার অভাবী ছিল, কিন্তু মা-বাবা সব সময় চেষ্টা করতেন সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করতে। অথচ সেই মোবারক সামান্য টাকা জমাতে গিয়ে মা-বাবার ওষুধ কেনা থেকেও পিছপা হয়েছেন। আত্মীয়স্বজনের বিপদে কখনো একটি পয়সা দেননি, এমনকি বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে দূরে থেকেছেন কেউ ধার চেয়ে বসে এই ভয়ে। সময়ের সাথে সাথে মোবারকের ব্যবসা জমে উঠল। দোকান থেকে উপার্জিত টাকা তিনি ব্যাংকে জমাতেন, ফিক্সড ডিপোজিট করতেন, আর স্বর্ণ কিনে লুকিয়ে রাখতেন পুরোনো ট্রাংকে। কেউ জানত না তাঁর আসল সম্পদের পরিমাণ। অথচ নিজের বাড়িটাও পুরোনো, ফাটল ধরা দেয়ালে ভরা। সেখানেই থাকতেন একাকী, রান্নার কাজ করতেন নিজেই, যেন একটা ডিমও অপচয় না হয়। বয়স যখন ষাট পেরিয়েছে, তখন হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটি বাগানবাড়ি বানাবেন শহরের বাইরে। শেষ বয়সে একটু খোলামেলা পরিবেশে থাকা যাবে, এই যুক্তি দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ করলেন। বাড়িটি বানাতে গিয়ে বহু শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিলেন। মোবারক বাড়ির সব খরচ নিজ হাতে হিসাব রাখতেন। ঘরগুলো আধুনিক, দেয়ালে কাঠের কারুকাজ, বারান্দায় দোলনা — সবই পরিপাটি, নিখুঁত। কিন্তু তবুও কেউ ছিল না পাশে। তিন বছর পর ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করলেন মোবারক। বড় গেট, ফুলে ভরা বাগান, হাঁটার পথ, বিশ্রামের ছায়া — সবই ছিল, কিন্তু সঙ্গী বলতে কেউ ছিল না। একদিন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলেন। গা কাঁপুনি, জ্বর, দুর্বলতা। স্থানীয় ডাক্তার প্রথমে পাত্তা দিলেন না। কিন্তু দিন পেরোতে না পেরোতেই বোঝা গেল সমস্যাটা গুরুতর। শহরে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করালেন। ধরা পড়ল প্যানক্রিয়াস ক্যান্সার, তৃতীয় স্টেজ। হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে মোবারক প্রথমবারের মতো ভাবলেন, এই বিশাল বাড়ি, জমানো টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স — সবই কেমন অর্থহীন লাগছে! জীবন এতটাই ক্ষণস্থায়ী, অথচ তিনি সারা জীবন কাটালেন হিসেব কষে। বাবার জীবনের শেষ সময়ে একটা ইনহেলার কেনেননি, মায়ের চোখে ছানি অপারেশনের খরচ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ভাতিজার পড়াশোনার খরচ না দেয়ায় কলেজে ভর্তি হতে পারেনি ছেলেটি। আজ সেই মোবারকের পাশে কেউ নেই। এক সন্ধ্যায় হাসপাতালের জানালায় তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে উঠল তাঁর। ছোট একটি মেয়ে পাশের রোগীকে তার বাবাকে ফল খাওয়াচ্ছে। দৃশ্যটি তাঁকে মনে করিয়ে দিল, তাঁর একটাই দোষ, ‘ভয় আর অবিশ্বাসে ভরা এক হৃদয়’। তিনি ভালোবাসতে পারেননি, কাউকে বিশ্বাস করতে পারেননি, এমনকি কাছের লোকজনকেও সাহায্য করতে পারেননি। টাকা ছিল, হৃদয় ছিল না। মোবারক সেই রাতে একজন নার্সকে ডেকে বললেন, “একটা কাজ করে দেবে মা?” নার্স বলল, “বলুন কাকা।” তিনি বললেন, “এই চিঠিটা আমার এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবকে পৌঁছে দেবে। আর যদি আমি বেঁচে না থাকি, আমার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে সব কাগজ ও টাকা আমার গ্রামের দরিদ্র লোকজনের জন্য ওয়াকফ করে দিয়ো।” চিঠিতে তিনি তাঁর কিপ্টামির স্বীকারোক্তি লিখেছিলেন। ক্ষমা চেয়েছিলেন মা-বাবার কাছেও। আর সব সম্পত্তি দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এতিমখানা, হাসপাতাল এবং গ্রামের দরিদ্রদের জন্য। দুদিন পর মোবারক হোসেন মারা গেলেন। কেউ খুব একটা কাঁদেনি, কিন্তু তাঁর চিঠি যখন প্রকাশিত হলো, তখন অনেকের চোখে পানি এসেছিল। এক কাপুরুষ, কিপ্টে মানুষ শেষ জীবনে বুঝেছিলেন, মানুষের জীবনের আসল সম্পদ টাকা নয়, বরং সম্পর্ক, সহানুভূতি আর উদারতা। তাঁর তৈরি বাগানবাড়িটি এখন এক বৃদ্ধাশ্রম, যেখানে অনাথ ও অসহায় বৃদ্ধরা বসবাস করেন। তাঁর কিপ্টে জীবনের শেষ অধ্যায়ে পাওয়া অনুশোচনাই হয়তো মানুষের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি হয়ে রয়ে গেল — একটা নিঃশব্দ শিক্ষা।

আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

  চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৮ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, কমিশনিং, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে ড. জাহেদুল হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, পরিচালনা, আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।  ড. জাহেদুল হাসান বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক স্বাধীন কারিগরি, নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে এর প্রতিটি ধাপ পরিচালিত হয়।  তিনি জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) প্রকল্পের মালিক হিসেবে নির্মাণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং স্থাপনা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড আইন অনুযায়ী কেন্দ্রটির অপারেটিং অর্গানাইজেশন। কমিশনিং, নিরাপদ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে ডিকমিশনিং পর্যন্ত সব অপারেশনাল দায়িত্ব এনপিসিবিএলের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করছে। কমিশনিং কার্যক্রমের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের জন্য বিএইবিএ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভিও সেফটিকে এক্সপার্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সিআরইএ কমিশনিং, অপারেশনাল প্রস্তুতি, অপারেটর প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান স্থানান্তরে এনপিসিবিএলকে সহায়তা করছে। রাশিয়ার স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা Rostechnadzor গুরুত্বপূর্ণ কমিশনিং পর্যায়ে বিএইআরএর সঙ্গে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন Peer Review Mission ও Technical Review পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। ড. জাহেদুল বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করেই গ্রহণ করা হয়। এনপিসিবিএল এখনো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি—এমন সমালোচনার বিষয়ে ড. জাহেদুল বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সরকার এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। শত শত প্রকৌশলী, অপারেটর, রিঅ্যাক্টর বিশেষজ্ঞ, রসায়নবিদ, বিকিরণ সুরক্ষা কর্মকর্তা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী রাশিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা Full Scope Simulator, On-the-Job Training এবং Classroom Training-সহ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অপারেটরকে বিএইআরএর কঠোর লাইসেন্সিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়। একই সময়ে সিআরইএর বিশেষজ্ঞরা কমিশনিং পর্যায়ে এনপিসিবিএলের কর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্থানান্তর নিশ্চিত করছেন। ফলেএনপিসিবিএল বর্তমানে প্রযুক্তিগত, অপারেশনাল ও প্রাতিষ্ঠানিক—সব দিক থেকেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি সক্ষম Operating Organization হিসেবে গড়ে উঠেছে।  স্পেন্ট ফুয়েল (ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি) ব্যবস্থাপনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি—এমন আলোচনার প্রসঙ্গে ড. জাহেদুল বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শিল্পের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মধ্যে চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও টিভিইলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইএইএর নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রিঅ্যাক্টর থেকে অপসারণের পর তাৎক্ষণিকভাবে অন্য দেশে পাঠানো হয় না। প্রথমে কেন্দ্রের নকশার অংশ হিসেবে নির্মিত স্পেন্ট ফুয়েল পোলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ ও শীতলীকরণ করা হয়, যা বিশ্বের সব আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেই অনুসরণ করা হয়।   পরবর্তীতে বিদ্যমান আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি, বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ভিবিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টদের মতে, রিয়্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।  

কামিনীর গন্ধে তুমি

আকাশের নীলে কীবা কবিতার মিলে না গোলাপের সুরভিতে ডানা মেলা চিলে না। গোধূলির রং এসে সন্ধ্যায় যায় মেশে কোথাও তো নেই তুমি গল্পের শুরু-শেষে।   চাদরের আদরে না না ভোরের রবিতে না শিমুল কোলে থাকা কোকিলের ছবিতে। রিমঝিম টুপটাপ বরষার ছন্দে তোমাকেই খুঁজে পাই কামিনীর গন্ধে।  

তোমাকেই প্রয়োজন

অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে পৃথিবীর ভাগ্যাকাশ শুরু হয়েছে একের পর এক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ; মহামারি চলছে পাল্লা দিয়ে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পশুত্ব গিলছে মনুষ্যত্ব অ-অনুমেয়— কতটা লম্বা মৃত্যুর মিছিল?   অশান্ত, ভীষণ প্রকৃতি এখন। ধৈর্য, সহনশীলতার হয়েছে অকালমৃত্যু দানবীয় শক্তিতে জ্বলে উঠেছে আগ্নেয়গিরি। বিষাক্ত বিষ উদগিরিত হচ্ছে গলগলিয়ে লাভার তাপে অঙ্গার হলো পাখির নীড়।   এমন দুর্যোগকালীন সময়ে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। কেবল তুমিই জানো স্বার্থের বেড়া ভেঙে প্রেমের কুটির রচনার মন্ত্র। তুমিই পারো ধ্বংসস্তূপকে রূপ দিতে শৈল্পিক।   এমন ধবধবে ভূতুড়ে দিনে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। তোমার জাদুকরি শব্দরাই পারবে মোহের ঝকমকি সরিয়ে জাগ্রত পতাকা ওড়াতে। তোমার আগুনঝরা কথা স্ফুলিঙ্গের মতো ঘুরবে কালের আকাশে।  

বাবারা এমনই

পিঠে পেট ঠেকেছে, তবু আনন্দ-বেসাতির কমতি নেই রোদে পুড়ে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে  একটা মানুষ জীবন-যুদ্ধে লড়ে যায় অহর্নিশি প্রসন্নতার আলপথে খোঁজে কষ্টের সুখ চোখের দীপ্র জ্যোতিতে প্রিয় সন্তানের মুখ কষ্টের টানাপোড়েনেও বাবা যেন সাঁকো বাঁধা সেতু- জীবন-নদীর দুই তীর অপত্য স্নেহে আগলে বেঁধে রাখে। নদীর স্রোত কোথাও খরস্রোতা, কোথাও ধীর লয় রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে পরিশ্রমী বাবারা এমনই বহমান নদী।

Top week

শেষের অনুশোচনা
সাহিত্য

শেষের অনুশোচনা

জুলাই ২০, ২০২৬ 0